প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

 



 

যদি আপনার কোনো সহকর্মীর কাছে কেউ কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়, তবে আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে প্রশ্ন করা না হচ্ছে, ততক্ষণ সংযত থাকুন। এটাই উত্তম পন্থা। এতে মানুষের আপনার মতামত জানার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে আপনার ব্যাপারে শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে এবং সুধারণাও তৈরি হবে।

 

প্রখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ ইবনে জাবের রহ. প্রায়শই লুকমান আ.-এর সেই সব অমৃত বচনের কথা স্মরণ করতেন, যা তিনি তাঁর সন্তানকে বলেছিলেন। লুকমান আ. বলেছিলেন, “যদি অন্য কাউকে কোনো প্রশ্ন করা হয় তা হলে তুমি তার উত্তর দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ো না। এমন আচরণ করো না যেন রটি দিতে পারলেই তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে। বরং তোমার এরকম তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেওয়ার কারণে, যাকে প্রশ্ন করা হলো, তিনি বিব্রতবোধ করবেন। সেই সাথে আশেপাশের অন্যদের কাছে তোমার এই অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তুমি সমালোচিত হবে।”

 

 

হাম্বলি মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ইবনে বাত্তা আল আকবারি রহ. বলেন, “আমি একবার উমর জাহিদ বাগদাদি রহ.-এর সান্নিধ্যে কিছু সময় থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি নিজেই চটজলদি তাঁর উত্তর দিয়ে ফেলেছিলাম। তখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'তোমার এই কাজটি যে ঠিক হয়নি, তা কি বুঝতে পেরেছ? তিনি ইঙ্গিতে আমাকে তাঁর অসন্তুষ্টির বিষয়টিও বুঝিয়ে দিলেন। ফলে আমি খুবই বিব্রত হয়েছিলাম।”

 

 

লেখক: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

ভাষান্তর: আলী আহমদ মাবরুর