কেউ যখন সফরের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বিদায় নেবে, তখন তার উচিত নিজের অভিভাবক, মা-বাবা, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন এবং দ্বীনি ভাইদের থেকে বিদায় নেওয়া। বর্তমান সময়ে আমরা সফরটাকে খুব গতানুগতিক যাত্রা বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু সফরে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু আদব মানা জরুরি। ইবনে আবদিল বার রহ. তাগিদ দিয়েছেন সফরে বের হওয়ার আগে সবাইকে যথাযথভাবে অবহিত করা এবং দুআ করে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহও আছে; যদিও এই চর্চাটি এখন আর সেভাবে দেখা যায় না।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সা. কোনো লোককে বিদায় দেওয়ার সময় তার হাত ধরতেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের হাত না ছাড়াতো, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত ধরে থাকতেন। তিনি বলতেন, 'তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ আমলের ব্যাপারটি আল্লাহ তায়ালার আমানতে রাখলাম।” আবু দাউদ : ২৬০০, তিরমিযি : ৩৪৪২, ইবনে মাজাহ : ২৮২৬
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রুপ ট্যুরের পরিমাণ খুব বৃদ্ধি পেয়েছে। দলবেঁধে অনেকেই নানা জায়গায় বেড়াতে যায়। এই সফরগুলোতে কারও কথা মানা না মানা নিয়ে অনেক সময় দ্বন্দ্ব হয়। এ কারণে নানান সমস্যাও তৈরি হয়। অথচ হাদিসে যেকোনো সফর শুরু করার আগেই নেতৃত্ব নির্ধারণ করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “তিন ব্যক্তি একত্রে সফর করলে তারা যেন নিজেদের মধ্য হতে একজনকে আমির বানিয়ে নেয়।” আবু দাউদ : ২৬০৮
মহিলাদের জন্য একাকী সফরে বের হওয়াকে ইসলাম অনুমোদন দেয়নি। মহিলাদের মাহরাম সাথে নিয়েই সফরে বের হতে হবে। মাহরাম বলতে স্বামী, পিতা বা ভাই কিংবা এমন নিকটাত্মীয় যাদের সাথে বিয়ে হারাম। মাহরাম ছাড়া সফরে বের হলে মহিলারা যাত্রাপথে পরপুরুষ দ্বারা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। মূলত এই বাস্তবতা থেকেই হাদিসে মাহরাম নিয়ে সফরে বের হওয়ার জন্য নারীদের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, সঙ্গে কোনো মাহরাম পুরুষ ব্যতীত তার জন্য এক দিনের পরিমাণ দূরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়।” বুখারি : ১০৮৮, মুসলিম : ১৩৩৯
লেখক: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
ভাষান্তর: আলী আহমদ মাবরুর
