যদি আপনি কারও সাক্ষাতে যান কিংবা কেউ যদি আপনার কাছে বেড়াতে আসে- সে যেই হোক না কেন, হতে পারে আপনার পিতা-মাতা বা কোনো আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব অথবা ভিন্ন বয়সের কেউ, তা হলে তার সাথে সাক্ষাতের আগে হাত, পা এবং পায়ের মোজা পরিষ্কার করুন। পরিধেয় পোশাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। নিজের বাহ্যিক অবয়ব ও পোশাক নিয়ে কখনও অবহেলা
করবেন না। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে আপনার আভজ্ঞতা ভালো না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাক্ষাতের ফলে আপনি যে স্বস্তি প্রত্যাশা করেছিলেন, তা থেকেও বঞ্চিত হবেন।
এ কারণে যখনই কোনো সাহাবি সফর থেকে নিজ শহরে ফিরতেন, রাসূল সা. বলতেন, “তোমরা তোমাদের নিজ গৃহে ফিরছ। তাই সুন্দর পোশাক পরে নাও। নিজের বাহনটিতে ভালোভাবে বসো। যাতে তোমাকে দেখে স্থানীয় মানুষের মাঝে সুধারণার সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তায়ালা অগোছালো কোনো কিছুকে পছন্দ করেন না।”
আরও পড়ুন: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতা
আরও পড়ুন: সফরে যাওয়ার আদব
কোথাও যাওয়ার আগে কিছু উপহারসামগ্রী নিতে পারেন। আবার কেউ আপনার বাড়ি বা কর্মস্থলে হাজির হলে কিংবা সাক্ষাৎ করতে এলে তাদেরও কিছু উপহার দিতে পারেন। আমাদের পূর্বসূরিরা কারও বাড়িতে মেহমান হলে ফিরে যাওয়ার সময় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ উপহার দিতেন। মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি এমনিতেই বেশ উপভোগ্য ও স্মরণীয়। তার ওপর যদি কাউকে উপহার দেওয়া যায়, যদিও বিষয়টা নিতান্তই প্রতীকী; কিন্তু তারপরও তা সাক্ষাতের আনন্দ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইমাম বুখারি রহ. এর সংকলিত হাদিস, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, এর মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।” আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৪
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, “রাসূল সা. সফরে থাকা পুরুষদের পরিবারকে আগে থেকে না জানিয়ে হঠাৎ করে বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রাতে ফিরে আসো, তা হলে সে যেন কোনো বার্তা না দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ না করে। কারণ, স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী লোকেরা একটু খোলামেলা থাকতে পারে। অথবা এমন কোনো অবস্থায় থাকতে পারে, যেভাবে সে নিজেকে স্বামীর সামনে উপস্থাপন করতে চায় না।” বুখারি : ১৮০১, মুসলিম : : ৭১৫
ইমাম নববি রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, “যদি কারও স্বামী দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর বাড়ি ফিরে আসে, তবে তার জন্য পূর্ব সংবাদ না দিয়ে ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। তবে যদি কেউ স্বল্প সময়ের জন্য সফরে যায় এবং রাতে ফিরে আসার কথা থাকে, তবে তার জন্য রাতে ঘরে ফিরতে তেমন অসুবিধা নেই।”
লেখক: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ ।
ভাষান্তর: আলী আহমদ মাবরুর।
